রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

লিচু খাওয়ানোর কথা বলে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় চটকদার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে এক কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

লিচু খাওয়ানোর কথা বলে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় চটকদার প্রলোভন দেখিয়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে এক কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সতেরো বছর বয়সী ওই অভিযুক্তকে আদালতের নির্দেশে বুধবার বিকালের দিকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে বাঁশেরপুল আমিনবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। বুধবার দুপুরের দিকে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। ধৃত কিশোর ওই এলাকার ভাড়াটিয়া মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মিষ্টি ফল খাওয়ার লোভ দেখিয়ে অবুঝ শিশুটিকে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে কৌশলে এই জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে ওই কিশোর। ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতেই ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার সত্যতা ও পারিপার্শ্বিকতা নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা তাইফুর রহমান জানান, পূর্বপরিচয় থাকার সুবাদে ভুক্তভোগী শিশু ও তার ভাই প্রায়শই অভিযুক্তের ঘরে খেলাধুলা করতে যেত। গত ১৮ মে রাতে শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাইরে ছিলেন এবং মা একটি জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় দোকানে যান। বাড়িতে বড় কেউ না থাকার এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে রাত সাড়ে দশটার দিকে অভিযুক্ত মোস্তাকিম লিচু দেওয়ার কথা বলে দুই ভাইবোনকে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নেয়।

পরবর্তীতে চতুরতার আশ্রয় নিয়ে ছোট ভাইকে অন্য একটি কক্ষে খেলনা দিয়ে মগ্ন রাখে এবং শিশুটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে তার ভাই শব্দ শুনে পাশের ঘরে গিয়ে অভিযুক্তকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর দুই ভাইবোনের কান্নার আওয়াজ পেয়ে দোকান থেকে ফিরে আসা মা দ্রুত ঘরে প্রবেশ করে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পরদিন ১৯ মে বিকালের দিকে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত কিশোরকে এলাকায় দেখতে পেয়ে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ডেমরা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।