সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মাদুরোর পক্ষে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত

এক সময়ের প্রতাপশালী রাষ্ট্রপ্রধান, এখন নিউইয়র্কের ব্রুকলিন কারাগারে বন্দি। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মাদক পাচার মামলার বিচারিক অচলাবস্থা কাটাতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন শেষে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় সংশোধনী আনতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার এখন মাদুরোর আইনজীবীদের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারবে।

মাদুরোর পক্ষে রায় দিয়েছে মার্কিন আদালত
ছবি: গ্রাফিক্স, দ্য ভয়েস২৪

এক সময়ের প্রতাপশালী রাষ্ট্রপ্রধান, এখন নিউইয়র্কের ব্রুকলিন কারাগারে বন্দি। ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মাদক পাচার মামলার বিচারিক অচলাবস্থা কাটাতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন শেষে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় সংশোধনী আনতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার এখন মাদুরোর আইনজীবীদের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে পারবে।

আইনি লড়াই ও সাংবিধানিক সংকট

গত শুক্রবার নিউইয়র্কের আদালতের নথিতে এই চাঞ্চল্যকর মোড় পরিবর্তনের তথ্য উঠে আসে। মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে মাদুরো তার পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারছিলেন না, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনীর পরিপন্থি। এই যুক্তিতে মাদুরোর প্রধান কৌঁসুলি ব্যারি পোল্যাক গত ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি খারিজের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, ফি পরিশোধের পথ বন্ধ করে দেওয়া আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার হরণ করার শামিল।

উল্লেখ্য যে, ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো এবং তার ৬৯ বছর বয়সী স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক নাটকীয় অভিযানে বন্দি হন। তাদের বিরুদ্ধে 'নার্কো-টেরোরিজম' বা মাদক-সন্ত্রাসবাদের মারাত্মক অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ ও ওয়াশিংটনের নমনীয়তা

ম্যানহাটনের জেলা জজ আলভিন হেলারস্টাইন মামলাটি সরাসরি খারিজ না করলেও মার্কিন প্রশাসনের অনড় অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। গত ২৬ মার্চের শুনানিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আসামি যে-ই হোক না কেন, তার আইনজীবী পাওয়ার অধিকার সর্বাগ্রে। হেলারস্টাইন মন্তব্য করেন, "মাদুরো এবং ফ্লোরেস বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তারা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নন। এই মুহূর্তে সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো আসামির সাংবিধানিক কাউন্সিল বা আইনজীবী পাওয়ার অধিকার।"

সরকারি কৌঁসুলি কাইল উইরশবা শুরুতে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিরোধিতা করলেও বিচারকের অনড় অবস্থানের মুখে তা টেকেনি। বিচারক আরও উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কারাকাস ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে, যা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

নেপথ্যের ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

মাদুরো ও ওয়াশিংটনের এই দ্বৈরথ নতুন নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভেনেজুয়েলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে জালিয়াতি আখ্যা দিয়ে এবং ২০২০ সালে মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে পুরস্কার ঘোষণা করে উত্তেজনা তুঙ্গে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, বন্দি দশা থেকেও মাদুরো এই মামলাকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে দাবি করছেন। তার ভাষ্যমতে, "ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ দখল করার অজুহাত হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই সাজানো মামলাটি তৈরি করেছে।"

সামনের পথ

এই আইনি মোড় পরিবর্তনের ফলে মাদুরো এখন তার পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে লড়ার সুযোগ পেলেন। মার্কিন বিচারব্যবস্থায় একজন ক্ষমতাচ্যুত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের এই হাই-প্রোফাইল মাদক মামলার রায় কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারের অর্থায়নে এই আইনি লড়াই এখন এক নতুন মাত্রা পেল।

সূত্র: রয়টার্স