মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার ঈদের পর আবারও চালু হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শুক্রবার সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৫ এর সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি জাপান, কোরিয়াসহ নতুন দেশগুলোতেও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে বন্ধ থাকা শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও তিনি কথা বলেন। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্ককে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
এর আগে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রিহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় পলিটেকনিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, পলিটেকনিক ও ভোকেশনাল শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
সেমিনারে শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ অনেকে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে ৪২টি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন।
একই দিন সিলেট জেলা পরিষদের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী। সেখানে দুই শতাধিক অসহায়, দুস্থ ও জুলাই যোদ্ধাসহ পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিংহ এবং বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী প্রমুখ। এছাড়া মন্ত্রী রেডক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজ আয়োজিত একটি ফুড ফেয়ারে প্রধান অতিথি হিসেবেও অংশ নেন।