নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে স্বামী সোহেল আচমকা শিফার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। সে সময় তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, আগুনে শিফার শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ গুরুতরভাবে পুড়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ তিনি মারা যান।
নিহত শিফা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার নওগাঁ গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের সন্তান। তাঁর স্বামী সোহেলও একই এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকে তাঁরা মিরপুরের বড়বাগের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পারিবারিক কলহ ও নির্মমতার বিবরণ দিয়ে নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোহেল ও শিফা দুজনেই স্থানীয় পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। মাত্র আট মাস আগে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় সোহেলের পক্ষ থেকে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছিল। সে সময় কনের পরিবার পাঁচ ভরি স্বর্ণ এবং সাধ্যমতো কিছু নগদ অর্থ প্রদান করে। তবে দাবিকৃত বাকি যৌতুকের টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই শিফাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই বকেয়া টাকা এনে দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল তাঁর স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন, যা পরবর্তীতে হাসপাতালে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।