শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

মনিপুর স্কুল তদারকি ও পরিচালনায় বিশেষ কমিটি গঠন

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চলমান অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে দুই বছর মেয়াদি একটি নতুন বিশেষ কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।

মনিপুর স্কুল তদারকি ও পরিচালনায় বিশেষ কমিটি গঠন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চলমান অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে দুই বছর মেয়াদি একটি নতুন বিশেষ কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রবিধানমালার ওপর ভিত্তি করে মোট আটজন সদস্যের সমন্বয়ে এই শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মুন্সী হুমায়ুন কবিরের স্বাক্ষর করা একটি দাপ্তরিক আদেশ জারির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তটি প্রকাশ্যে আসে।

নতুন এই বিশেষ কমিটির শীর্ষ পদে অর্থাৎ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ম. হামিদুল হক মানিক, যিনি ইতিপূর্বেও প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-৩), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক। এছাড়া কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে শামীমা আহমেদ এবং অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে শাকিল মোল্লা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি পদাধিকারবলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এই কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই বিশেষ প্রশাসনিক পরিবর্তনের পেছনে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মের একটি পটভূমি রয়েছে। গত ১৭ মে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীকালে ‘শিক্ষকদের ৯৮ ভাগ অবৈধ, অনিয়ম ৬০০ কোটির’ শিরোনামে একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে বর্তমানে কর্মরত ৬৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই প্রচলিত কোনো সরকারি নিয়ম বা নীতিমালার তোয়াক্কা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন কর্তৃপক্ষ সমস্ত বৈধ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে নিয়োগ প্রদান করেছিল। শুধু নিয়োগ বাণিজ্যই নয়, এর পাশাপাশি একাডেমিক উন্নয়ন খাত, নগর ভাতা, পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত সম্মানী ভাতা এবং নতুন ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সামগ্রিকভাবে ৬০০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক আত্মসাৎ ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির তদারকি জোরদার ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হলো।