মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব এবং জাতিগত পরিচয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই মহান সংগ্রাম কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়, বরং এটি পুরো দেশ ও জাতির এক অনন্য সম্পদ।
বুধবার দুপুরের দিকে সোনাইমুড়ী এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ছিল মূলত একটি গণযুদ্ধ, যেখানে রাজনৈতিক আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ইতিহাসের সত্যকে বিকৃত করে এর মূল চেতনাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরানোর অপচেষ্টা চলেছে।
স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একাত্তরে যারা দেশের মুক্তিকামী মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, হানাদার বাহিনীকে মদদ দিয়েছিল এবং স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, ইতিহাসে তারা চিরকালের জন্য কুখ্যাত হয়ে রয়েছে। এই অপশক্তিগুলো বিভিন্ন সময়ে সমাজে ফাটল ধরানোর এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত করেছে। তবে ভবিষ্যতেও তাদের এমন যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশবাসী রুখে দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়ে আলোকপাত করে ইশরাক হোসেন জানান, দেশজুড়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় ছয় হাজার জনের ভুয়া সনদ বাতিল করা হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এ সময় তিনি স্থানীয় বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ট্রাস্ট কলেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন কলেজকে জাতীয়করণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জাদুঘরটিকেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দুটির প্রেক্ষাপট ও ধরন ভিন্ন। একাত্তরের সংগ্রাম ছিল একটি সশস্ত্র যুদ্ধ, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিরোধ ছিল একটি নিয়মতান্ত্রিক গণআন্দোলন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো স্বৈরাচারী মানসিকতা এবং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সবসময় কঠোর থাকবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের সভাপতি একেএম ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জেলার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার টিএম মোশারফ হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূঁইয়া ও সিরাজুল ইসলামসহ সোনাইমুড়ী উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।