প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি দাবি তোলেন, প্রচারিত দৃশ্যটি রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ক্যামেরার বা সিসিটিভির দৃশ্যপট থেকে সংগৃহীত। রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত মর্যাদা বিনষ্টের পাশাপাশি ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি তার প্রথম সহধর্মিণী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় সহধর্মিণী মরিয়ম বেগম এবং ব্যক্তিগত যানবাহন চালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারস্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গমন করেন। সেখানে অন্তত এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবস্থানকালীন সময়ে চালক ওবায়দুল্লাহর চক্রান্তে ৬ থেকে ৭ জন অচেনা ব্যক্তি ওই কক্ষে অনুপ্রবেশের সুযোগ পায়।
ঐ আদেশে বলা হয়, বহিরাগত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তার ও স্বজনদের পরিচয় জানতে চেয়ে অসম্মানজনক আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের কাছের একটি চায়ের দোকানে ডেকে নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু অর্থ প্রদান করে তারা সেখান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।
পরবর্তীকালে অনুসন্ধান চালিয়ে তিনি অনুধাবন করতে পারেন, পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন তার নিজস্ব গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা হন। মাসুম বিল্লাহর পারিবারিক একটি পুরোনো দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লিখিত বার্তার ভাষ্যমতে, ঐ দিন রাতের দিকে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সরাসরি তার নিকট পাঁচ লাখ এবং মাসুম বিল্লাহর নিকট দশ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যায্য এই অর্থ প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে দিয়ে পরিবারকে জনসমক্ষে ছোট করা এবং বড় ধরনের ক্ষতি সাধনের হুমকি দেওয়া হয়।
দাবি অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় চালক ওবায়দুল্লাহ ওই নজরদারি ক্যামেরার ধারণকৃত দৃশ্য ব্যবহার করে মনগড়া ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট বানিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। এটিকে নিজের এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা একটি গভীর চক্রান্ত ও কাদা ছোড়াছুড়ির অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন ওই রাজনীতিবিদ।
উদ্ভূত পরিস্থিতির কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো।
ঘটনার প্রধান নেপথ্য নায়ক ওবায়দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট চক্রটিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।