শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ

নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বালেন্দ্র শাহ
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র‍্যাপার বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত।

শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রেসিডেন্ট ভবন ‘শীতল নিবাসে’ আয়োজিত এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই শতাধিক হিন্দু পুরোহিত ও বৌদ্ধ লামাদের শঙ্খধ্বনি, বৈদিক স্তোত্র এবং শান্তি প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) নেতৃত্বাধীন ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৫ মার্চ দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বালেন শাহের মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ (আরএসপি) ২৭৫ আসনের সংসদে ১৮২টিতে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত নেপালি কংগ্রেস এবং চীনঘেঁষা হিসেবে পরিচিত কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির আধিপত্য ছিল। তবে গত নির্বাচনে নেপালি কংগ্রেস মাত্র ৩৮টি এবং অলির দল মাত্র ২৫টি আসন পেয়ে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়। বালেন শাহর নেতৃত্বাধীন নব্য এই রাজনৈতিক শক্তিটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে ‘ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্ক’ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।

পেশাগত জীবনে বালেন শাহ একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। পরবর্তীতে র‍্যাপার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করার পর তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে আসেন। মেয়র থাকাকালীন অবকাঠামো উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য পেলেও হকার ও ভূমিহীন উচ্ছেদের অভিযোগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সহিংস রূপ নিলে অন্তত ৭৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই গণবিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। চিরাচরিত ধারার সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি অনুসারীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকা বালেন শাহ এখন নেপালের যুবসমাজের আইকন। দেশটির সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা কাটিয়ে বালেন শাহ নেপালকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।