রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

‘নির্বাচন সুষ্ঠু না হলেও দেশের স্বার্থে ফলাফল মেনে নিয়েছে বিরোধী দল’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি ইঙ্গিত দিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলিনি, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ফলাফল মেনে নিয়েছি। বিএনপি যদি

‘নির্বাচন সুষ্ঠু না হলেও দেশের স্বার্থে ফলাফল মেনে নিয়েছে বিরোধী দল’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি ইঙ্গিত দিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলিনি, দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ফলাফল মেনে নিয়েছি। বিএনপি যদি

সঠিক পথে ফিরে না আসে, তাহলে অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর মতো পরিণতি হতে পারে।

সোমবার (২৩ মার্চ) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাসভবনে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "জুলাই মাত্র দুই বছর দেড় বছর আগে হয়েছে। সারা দেশের মানুষই জুলাইয়ের যোদ্ধা। এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে না। আমরা চাই না আপনাদের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদীদের মতো হোক। তারা অন্যায় ও অপরাধ করেছিল বলেই তাদের এমন পরিণতি হয়েছে। সেই সময়ে আপনারাও নির্যাতিত ছিলেন, মজলুম ছিলেন, আমরাও ছিলাম। এত দ্রুত তা ভুলে গেলেন কেন? দীর্ঘদিনের জুলুম-নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন না কেন?"

রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, নবজাতক থেকে শুরু করে সাধারণ দরিদ্র মানুষও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর ও ভ্যাট দিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিলে অবদান রাখে। তাই এ অর্থ অপব্যবহার বা লুটপাটের কোনো অধিকার কারও নেই। অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সরকারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক যেমন মালিক নন, তেমনি সরকারও জনগণের সম্পদের মালিক নয়; বরং জনগণের জান-মাল ও সম্মান রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক মাত্র। তিনি সতর্ক করেন, সরকার যদি নিজেদের মালিক মনে করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

বর্তমান প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদ জনগণের শ্রম ও ঘামে গড়ে উঠেছে। তাই বিলাসিতা নয়, বরং ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে জনসেবায় নিয়োজিত হওয়াই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

রাজনীতির লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জনগণের আমানত রক্ষা ও রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করাই তাদের অঙ্গীকার। একই সঙ্গে রাজনীতিতে সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ না করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, "এই মাঠ বা সম্পদ যা-ই হোক, তা দেশের কাজে ব্যবহার করা হবে। বিদেশি মেহমান ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সাথে রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট আলোচনার জন্য এটি ব্যবহৃত হবে। আমি এখানে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে থাকব না, এটি কেবল রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে ইনশাআল্লাহ।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলাম কোনো প্লট বা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করব না। আমরা যা ঘোষণা দিয়েছি, কাজেও তার প্রতিফলন ঘটিয়েছি।"

চাঁদাবাজির সংস্কৃতি নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারে না গিয়েও এ ধরনের কর্মকাণ্ড করা সম্ভব, তবে তাদের দলের কোনো কর্মী কখনো এ ধরনের কাজে জড়িত ছিল না।

নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেকেই অভিযোগ করেন—ভোট এক দল পেলেও সরকার গঠন করেছে অন্য দল। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং সুজন-এর মতো সংস্থাও অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছে।

শেষে দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের মনে ক্ষোভ থাকলেও ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আল্লাহ থাকেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।