রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত দেশ, উৎসবমুখর ভোট প্রত্যাশা ইসির

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত দেশ, উৎসবমুখর ভোট প্রত্যাশা ইসির

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৫০টি রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন। সারা দেশে সশরীরে ভোটগ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে। পাশাপাশি ২৯৯টি কেন্দ্রে গণনা হবে পোস্টাল ভোট। সব মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ইন-পার্সন ভোটিংয়ের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর প্রায় অর্ধেককে ‘সাধারণ’ এবং বাকি অর্ধেককে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ।

পোস্টাল ভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারদের কাছে ৭ লাখ ৩ হাজার ব্যালট পৌঁছেছে। অবশিষ্ট ব্যালটগুলো পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং আগামী পরশুদিনের মধ্যে সব ব্যালট পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন কমিশনার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৪৫ হাজার ৩৩০ জন অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছেন। পাশাপাশি ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নিবন্ধিত হয়েছেন, যাদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংবাদ সংগ্রহের জন্য ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি।

নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এবার যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ইউএভি (ড্রোন) ও বডি ওর্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি ৯৫ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

ইসি সানাউল্লাহ আরও জানান, ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং পাঁচ লক্ষাধিক পোলিং অফিসার। আগামীকাল সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এবার ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উল্লেখ করা যাবে। নির্বাচনের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর মোট চারবার ভোটগ্রহণের অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। বেশিরভাগ ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কমিশন। পরদিন সকালে রিটার্নিং অফিসাররা ‘ফর্ম-১৮’-এ স্বাক্ষরের পর আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩০০টি মামলা হয়েছে এবং ৫০০টির বেশি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফলভাবে দমন করেছে বলেও জানান তিনি।

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা ছাড়ার সময় মানুষের গ্রামে ফেরার স্রোত ভালো ভোটার টার্নআউটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোট উৎসব সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।