রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১ যৌথ বাহিনির অভিযান

নরসিংদীর রায়পুরায় স্থানীয় আধিপত্য ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে অনিক নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১ যৌথ বাহিনির অভিযান
ছবি : সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরায় স্থানীয় আধিপত্য ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে অনিক নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও প্রশাসনের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর একটি বড় দল মাঠে নেমে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

আজ মঙ্গলবার ভোররাতে রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর এবং দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী নাজিম উদ্দিন এবং আলাল মুন্সির সমর্থকদের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার বাসিন্দা ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং তিনি স্থানীয়ভাবে নাজিম উদ্দিনের সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিলক্ষা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি এবং জবা মেম্বার। আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই তারা একদল ভাড়াটে ও পেশাদার অস্ত্রধারীদের সঙ্গে নিয়ে স্পিডবোটযোগে আকস্মিকভাবে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করেন। এরপর তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে দুই পক্ষই মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এই গোলাগুলির ঘটনায় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রায়পুরা থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিপুলসংখ্যক ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপরই ওই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে একযোগে অভিযান শুরু করে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং নতুন করে কোনো সংঘাত যাতে না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে পুলিশ বলছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।