মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

নরসিংদীতে টেটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির টেটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামের পাশে মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।

নরসিংদীতে টেটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক ব্যক্তির টেটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর গ্রামের পাশে মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।

নিহত ব্যক্তির নাম কাউসার মিয়া (৩৫)। তিনি নিলক্ষা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং শাহ আলম মিয়ার ছেলে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের সময় তাকে টেটাবিদ্ধ করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্রোতের টানে মরদেহটি প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ভেসে আসে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টেটাবিদ্ধ অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া গেছে। পরিচয় শনাক্তের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা হয়েছে, পরবর্তী ব্যবস্থা তারাই নেবে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিলক্ষা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার বুলবুল মিয়া এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২)-এর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন গ্রুপ এবং আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

স্থানীয়দের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা আলাল মুন্সি ও সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়ার অনুসারীরা মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে করে ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। পরে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষটি দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এতে বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) ও অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সংঘর্ষে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন এবং পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।