দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।
আজ বুধবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরিয়মের মৃত্যুর পরদিন তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং সংসদ সদস্যের সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুল রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলাটিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মরিয়মের মামা ও সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুল রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আর গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম জামিনে আছেন।
মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা মিলে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম একাধিকবার ফোনে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ও মরিয়মের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। পরে নজরুল জানান, মরিয়ম তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
ভিডিওটি ফাঁসের ঘটনায় নজরুল তার সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুলকে দায়ী করেন। এরপর গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন ওবায়দুল। ওই মামলায় গাজী নজরুল, আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়।
হত্যাচেষ্টার মামলার পরদিন জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
পরে গত ১০ আগস্ট হত্যাচেষ্টার ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পান গাজী নজরুল। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে বেল বন্ড জমা দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ঢাকার ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।