তুরস্কে ন্যাটোর সম্মেলন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ইউক্রেন জুড়ে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চালানো এই দ্বিতীয় দফার ভয়াবহ আক্রমণে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ক্রেমলিনের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে গুঁড়িয়ে গেছে একের পর এক বহুতল আবাসিক ভবন।
কিয়েভের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সোমবার ভোরের দিকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক হামলায় পুরো দেশ কেঁপে ওঠে। শুধু রাজধানীতেই ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ছয়জন। হামলার তীব্রতায় আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশত মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ইউক্রেনীয় সামরিক সুত্রের দাবি, রাতভর অভিযানে কয়েক শ ড্রোন এবং অর্ধশতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মস্কো।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে প্রথম বিস্ফোরণের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর দফায় দফায় আরও বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। দেশজুড়ে একযোগে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং জীবন বাঁচাতে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলোতে আশ্রয় নেন।
এই হামলার ঠিক আগের দিনই ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এমন একটি পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে সামনে রেখে ক্রেমলিন বড় ধরনের উসকানি দিতে পারে। তুরস্কে অনুষ্ঠেয় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার একটি বিশেষ আলোচনার কথা রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহের শেষের দিকেও কিয়েভে একই ধরনের বড় মাপের বিমান হামলা চালিয়েছিল পুতিন বাহিনী, যা চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষয়ী হিসেবে রূপ নেয়। ওই ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পর পর দুই সপ্তাহের এই ব্যাপক হামলা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটন থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত এসেছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, চলমান এই সংঘাত অবসানের একটি উপায় খুব দ্রুতই সূত্রবদ্ধ হতে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও কাছাকাছি। তবে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি বা যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।