বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরে অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করেও মর্মান্তিক পরিণতির মুখে পড়েছেন একদল বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ থেকে গ্রিসের পথে যাত্রাকালে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরে অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করেও মর্মান্তিক পরিণতির মুখে পড়েছেন একদল বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী। লিবিয়ার ‘গেম ঘর’ থেকে গ্রিসের পথে যাত্রাকালে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর সরকারের কাছে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর আসে। পাশাপাশি কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে পাঁচ জন জগন্নাথপুর উপজেলার, চার জন দিরাই উপজেলার এবং একজন দোয়ারাবাজার উপজেলার।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘যেহেতু তারা বৈধ পথে যাননি, তাই সরকারিভাবে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না। তবে আমরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে তথ্য সংগ্রহ করতে, যাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বেঁচে ফেরা একজন জানান, একটি ছোট নৌকায় ৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩৮ জন বাংলাদেশি। তাদের বড় নৌকায় নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ছোট নৌকায় তোলা হয় বলে দাবি করেন তিনি। যাত্রাপথে কোনো জিপিএস বা যোগাযোগের যন্ত্র দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ওই জীবিত ব্যক্তি আরও দাবি করেন, পাচারকারী চক্রের অনেক সদস্য সিলেট অঞ্চলের বাসিন্দা।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, বাংলাদেশ মিশন ইতিমধ্যে গ্রিসের কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহায়তায় জীবিতদের সহায়তা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনকে টাকা বা সম্পদের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মানুষ যখন স্বেচ্ছায় অবৈধ পথে যায়, সেখানে সরকারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।’

উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তবরুক থেকে নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। তবরুকসহ লিবিয়ার বিভিন্ন ‘গেম ঘর’-এ এখনো বহু বাংলাদেশি আটক থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে ইতালি বা গ্রিসে অবৈধভাবে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রাকে দালালচক্র ‘গেম’ নামে পরিচিত করে। আর যেসব স্থানে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটকে রেখে পরে নৌকায় তোলা হয়, সেগুলোকে বলা হয় ‘গেম ঘর’।