মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অপরাধ দমনে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান শুরু

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাই দমনে ধারাবাহিক এই অভিযানের পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে, জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

অপরাধ দমনে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান শুরু
বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাই দমনে ধারাবাহিক এই অভিযানের পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে, জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, ডিএমপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ পরিচালিত অভিযানে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় মোহাম্মদপুর, শের-ই-বাংলা নগর, আদাবর, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে ৯ হাজার ২৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৩০৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। একই সময়ে ১১টি থানায় মোট ২ হাজার ৬২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরে ৬৭৪, হাজারীবাগে ৪৯৪, নিউমার্কেটে ৫১, মিরপুরে ৪৬৯, শাহবাগে ১৫৯, বংশালে ১৩২, লালবাগে ১২৮, উত্তরা পশ্চিমে ২৩৪, ধানমন্ডিতে ৬৭, বাড্ডায় ১১৫ এবং মতিঝিলে ১০২ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, “টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, ধারাবাহিক অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং পুলিশ-জনগণের সমন্বিত সহযোগিতার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে যথেষ্ট ভালো।”

তিনি আরও বলেন, “অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্ত করা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।”

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত অপরাধ দমনে অপরাধ তদন্ত বিভাগ খুন, অর্থপাচার, সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ২টি মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত।

এদিকে, র‍্যাবের তথ্যমতে ফেব্রুয়ারিতে ৬২৭ জনকে গ্রেপ্তার ও ৪৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। মার্চে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৫২ জন এবং পরিচালিত হয়েছে ৯৯টি মোবাইল কোর্ট।

সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সক্রিয় রয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, মার্চে ১৬৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে থানাগুলোও সক্রিয় রয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, নিয়মিত অভিযানে মার্চে ৬৭৩ জনকে গ্রেপ্তার ও ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের দমনে আমরা তৎপর রয়েছি। মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”

নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব, ধানমন্ডির ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বাড্ডার ওসি কাজী মো. নাসিরুল আমিন এবং শাহবাগের ওসি মো. মনিরুজ্জামান—সবার বক্তব্যেই উঠে এসেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত।