বিদ্যুৎ বিল অতিরিক্ত আসার বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগকে স্রেফ ‘অপপ্রচার’ হিসেবে দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সোমবার রাতের দিকে নিজেদের অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রচারিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবস্থান প্রকাশ করা হয়। তবে কর্তৃপক্ষের এমন দাবির পর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকেরা বিষয়টিকে ভুক্তভোগীদের সাথে একধরনের সংবেদনহীন আচরণ হিসেবেই বিবেচনা করছেন।
কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে অতিরিক্ত বিল প্রদান সম্পর্কিত বিষয়ে কিছু ব্যক্তি বা পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণার তীব্র বিরোধীতা করে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ভৌতিক বা অতিরিক্ত বিল সংক্রান্ত যেসকল সুনির্দিষ্ট নালিশ জমা পড়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে সমাধান করে দিয়েছে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বিভ্রান্তি তৈরির কোনো অবকাশ নেই।
সংস্থার তরফ থেকে আরও বলা হয়, কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নালিশ থাকলে যথাযথ প্রমাণাদিসহ আবেদন জমা দিলে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণের প্রত্যাশা করা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এই ব্যাখ্যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অজস্র ভুক্তভোগী তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অধিকাংশ নেটিজনের মতে, বিল সংক্রান্ত এই দুর্দশা প্রত্যক্ষ বাস্তব অভিজ্ঞতা, কোনো বানানো গল্প নয়। এমনকি অনেকেই সরকারি এই বার্তাকে এক ধরনের ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন।
শিশির রায় নামের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য বাক্সে প্রশ্ন তোলেন, এটি কি কোনো ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য নাকি ভয়ভীতি প্রদর্শন? অন্যদিকে মাহির ফয়সাল নামের একজন ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়ে জানান, জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে পেতে একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড প্রতিষ্ঠা করা দরকার, যেন জমা পড়া অভিযোগ ও সমাধানের সঠিক বিবরণ সবার সামনে দৃশ্যমান হয়।
নোমান আহমদ নামের অপর এক ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, কেবল অপপ্রচার বলে চালিয়ে দিলে বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আড়াল হয়ে যায় না। যদি সমস্ত নালিশের সুরাহা হয়েই থাকে, তবে তদন্তের সারসংক্ষেপ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার প্রমাণ উন্মুক্ত করা উচিত। সাধারণ মানুষ মুখের কথায় নয়, আসল স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করতে চায়।