শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সোমবার প্রকাশিত ওই ই-বুকে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামের উপশিরোনামে নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়।

জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সোমবার প্রকাশিত ওই ই-বুকে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামের উপশিরোনামে নতুন পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানানো হয়।

ই-বুকে বলা হয়েছে, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এর প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে সচিব কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরির জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রককে রাখা হয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। কমিশন গত ২১ জানুয়ারি সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

জাকির আহমেদ খান নেতৃত্বাধীন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে ৪৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে।

নবম পে কমিশন মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে সময় প্রথম বছরে সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছরে সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়।