সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তিন অঞ্চল ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের

পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে দেশটির সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য ২৮তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন অঞ্চল ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের

পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) ভেঙে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে দেশটির সরকারের ভেতরে আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য ২৮তম সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নিয়ে ভাবা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন।

সরকারি ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টি এখনো আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করাই সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে। একই সঙ্গে কতটি নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে, নাকি প্রদেশের পরিবর্তে আরও বেশি প্রশাসনিক ইউনিট তৈরি করা হবে—সেসব বিকল্পও বিবেচনা করা হচ্ছে।

আলোচনার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি এর ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ওই কর্মকর্তা মনে করেন, ১৮তম সংবিধান সংশোধনীর পর প্রদেশগুলোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে যে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, নতুন প্রদেশ গঠন করলে সেগুলোর একটি অংশ কমানো সম্ভব হতে পারে।

সম্প্রতি পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সব রাজনৈতিক দলকে নতুন প্রদেশ গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এরপরই নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে পাকিস্তানের আইনজীবী সংগঠনগুলোর অবস্থান এক নয়। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) নতুন প্রদেশ গঠনের ধারণাকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বার কাউন্সিল (পিবিসি) জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তা সংবিধান, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই করতে হবে।

যেসব পরিবর্তন বিবেচনায়

সরকারি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রদেশ গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে প্রথমেই সামনে আসবে—কতটি প্রদেশ তৈরি করা হবে, সেই প্রশ্ন।

আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবে করাচি ও গোয়াদরকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা রয়েছে। সিন্ধুর বাকি অঞ্চলকে একটি প্রদেশ হিসেবে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি বেলুচিস্তানকে দুটি এবং পাঞ্জাবকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করার একটি প্রস্তাবও বিবেচনাধীন।

তবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার (কেপি) ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। কারণ সাবেক ফেডারেল শাসিত উপজাতীয় এলাকা (ফাটা) ইতোমধ্যে কেপির সঙ্গে একীভূত হয়েছে। এর ফলে আগে ফাটা ও পাটা ব্যবস্থার আওতায় থাকা অঞ্চলগুলো প্রাদেশিক সাংবিধানিক, আইনি ও বিচারিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এরপরও কেপিকে পশতুন ও হাজারা—এই দুটি অঞ্চলে ভাগ করার সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সরকারে বাড়তে পারে ক্ষমতা

নতুন প্রদেশ তৈরির পরিকল্পনার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর আওতায় স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রাদেশিক সরকারের মাধ্যমে না দিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে দেওয়ার একটি প্রস্তাব রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশাররফের আমলে চালু হওয়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থা যদি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর থাকত, তাহলে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে অভিজ্ঞ ও দক্ষ কাউন্সিলরদের একটি বড় দল গড়ে উঠত।


তবে প্রদেশ পুনর্গঠন কিংবা প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পথে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক ঐকমত্য। পাকিস্তান সরকারের আলোচনাতেও বিষয়টিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।