সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পাকিস্তানে ‘ভারত-সমর্থিত’ সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত

পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের ওয়াশুক জেলার মাশখেল এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাতে একটি স্থানীয় দোকানে অবস্থানকালে তাদের লক্ষ্য করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। একটি শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ সোমবার এই খবর প্রকাশ করেছে।

পাকিস্তানে ‘ভারত-সমর্থিত’ সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৫ শ্রমিক নিহত
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানের ওয়াশুক জেলার মাশখেল এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাতে একটি স্থানীয় দোকানে অবস্থানকালে তাদের লক্ষ্য করে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। একটি শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ সোমবার এই খবর প্রকাশ করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে নাশকতা সৃষ্টিকারী এবং পাক সরকারের ভাষায় ‘ফিতনা আল-হিম্দुस्तान’ নামে পরিচিত একটি উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই বর্বরোচিত হামলা পরিচালনা করেছে। হামলায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন— মোহাম্মদ বিলাল, মোহাম্মদ হুসাইন, মোহাম্মদ কাদির, মহসিন এবং বিলাল।

হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনপ্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা পুরো মাশখেল এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলেন। অপরাধীদের ধরতে এবং তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই একটি বড় ধরনের চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পাঁচ শ্রমিকই জীবিকার তাগিদে বেলুচিস্তানের বাইরের অন্য প্রদেশ থেকে সেখানে এসেছিলেন। সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের মরদেহ নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই অপরাধের নেপথ্য কারণ উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিরস্ত্র ও নিরীহ শ্রমিকদের এই নৃশংস হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর আঘাত হেনে উগ্রপন্থীরা আবারও তাদের পৈশাচিক ও হিংস্র মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য কোনো অধিকার আদায় নয়, বরং ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করে সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করে তোলা। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বকে যারা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একই সুর মিলিয়ে প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ এই নাশকতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, প্রশাসনকে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। একই সাথে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী ও চরম কাপুরুষোচিত কাজ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে যারা এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। উগ্রপন্থীরা নিজেদের অসৎ ও দেশবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই বারবার সাধারণ ও মেহনতি মানুষকে নিশানা বানাচ্ছে যা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।