যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে গেলো, যখন জোহরান মামদানি পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এটি ঘটে ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার — নতুন বছরের প্রথম প্রহরে একটি ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে আয়োজন হওয়া কর্মসূচিতে।
৩৪ বছর বয়সী মামদানি এই শপথের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং অনেক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ দায়িত্বপ্রার্থী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। শপথ বাক্য পাঠ করান নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিতিয়া জেমস, যেখানে মামদানি পবিত্র কোরআনের ওপর হাতে রেখে তার দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানটি ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশন-এ অনুষ্ঠিত হয়, যার স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক মূল্য বিচার করে এটি নির্বাচন করেন নতুন মেয়র। মামদানির ট্রানজিশন টিমের মতে, এই স্থলটি নিউ ইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।
এরপর দুপুরে তিনি পুনরায় সিটি হলের সিঁড়িতে জনসমক্ষে শপথ নেবেন, যেখানে তার শপথ বাক্য পাঠ করাবেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন কংগ্রেসওম্যান অলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ। এছাড়া শহরের অন্যান্য অংশে গণসংবর্ধনা ও অনুষ্ঠানও আয়োজিত হবে।
জোহরান মামদানি উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৯ সালে পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হন। তিনি ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক নীতিতে বিশ্বাসী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাস ভাড়া কমানো, ভাড়া বৃদ্ধির স্থগিতাদেশ, ও সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার সুবিধা ইত্যাদি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
নতুন মেয়র হিসেবে তার আগমন নিউ ইয়র্কবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে, কারণ তিনি যেমন ভিন্ন পটভূমির, তেমনি শহরের বড়-সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো সমাধানে বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই থাকবেন।