রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পদ্মার আগ্রাসী রূপ: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদী ভাঙনে দিশেহারা তীরবর্তী বাসিন্দারা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট অঞ্চলে নতুন করে পদ্মা নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত মিটার এলাকা।

পদ্মার আগ্রাসী রূপ: দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদী ভাঙনে দিশেহারা তীরবর্তী বাসিন্দারা
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট অঞ্চলে নতুন করে পদ্মা নদীর ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

গত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত মিটার এলাকা। বিশেষ করে এক, দুই ও তিন নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় নদীর এই আকস্মিক রূপ পরিবর্তনের ফলে আশপাশের বসতবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ও জনপদ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সবকিছু নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত ঘাটগুলোর আশপাশের মাটি অনবরত ধসে পড়ছে। পানির তীব্র টানে বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল। ফলে নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো নিজেদের শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় দিনরাত উদ্বেগের মধ্যে অতিবাহিত করছে।

উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বসতভিটা একদম নদীর কিনারায় হওয়ায় রাতের বেলা ঘুমাতেও তারা ভয় পাচ্ছেন। যেকোনো সময় ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে তাদের। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এর আগেও বারবার ভাঙনের শিকার হয়ে তারা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। এখন নতুন করে মাথা গোঁজার মতো কোনো ঠাঁই নেই। দীর্ঘদিন ধরে কেবল আশ্বাসের বাণী শুনলেও ভাঙন ঠেকাতে টেকসই কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান হয়নি। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এই মানুষগুলো এখন টিকিয়ে থাকার জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক জানান, এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই কম-বেশি এখানে নদীভাঙন দেখা দেয়। এবার তিন নম্বর ঘাটের পেছনের অংশেও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকও উপদ্রুত এলাকাটি পরিদর্শন করে গেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও ফেরি পারাপার সচল রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভাঙনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটসহ উপজেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি সুরক্ষামূলক কাজ শুরু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মতে, কেবল সাময়িক ব্যবস্থা না নিয়ে দৌলতদিয়া অঞ্চলকে রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। তা না হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই ফেরিঘাট ও সংলগ্ন অবকাঠামোসহ শত শত পরিবারের অস্তিত্ব অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।