রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

পে-স্কেল নামে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণার দিনে যমুনা অভিমুখে যাত্রার রহস্য কী!

রাজধানীতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার দিনেই নবম জাতীয় পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আকস্মিক পদযাত্রা ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

পে-স্কেল নামে বিএনপির ইশতেহার ঘোষণার দিনে যমুনা অভিমুখে যাত্রার রহস্য কী!
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার দিনেই নবম জাতীয় পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আকস্মিক পদযাত্রা ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকালে পুলিশের দেওয়া কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যারিকেড ভেঙে আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিছক বেতন-ভাতার দাবি নাকি এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে এখন নানা মহলে বিশ্লেষণ চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড় পার হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথরোধ করে। তবে উত্তেজিত কর্মচারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নেন। এ সময় ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; তারা কেবল তাদের দীর্ঘদিনের পে-স্কেল গেজেট প্রকাশের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সরকার ঘনিষ্ঠ মহলে এই আন্দোলনের সময়জ্ঞান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। একই দিনে বিএনপির মতো একটি বড় দল যখন তাদের জাতীয় ইশতেহার ঘোষণা করছে, ঠিক তখনই প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাকে ‘কাকতালীয়’ হিসেবে দেখতে নারাজ অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, পে-স্কেলের মতো দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি বিশেষ মহল অস্থিরতা তৈরির মাধ্যমে হয়তো প্রধান বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ভিন্ন মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিএনপি নেতারাও বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের দাবির যৌক্তিকতা থাকলেও ইশতেহার ঘোষণার দিনে যমুনা অভিমুখে এমন মারমুখী যাত্রা একটি বিশেষ রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দেয়। এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থ রক্ষা করছে, তা নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাতীয় নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে এ ধরনের অস্থিরতা তৈরি করার মূল লক্ষ্য হতে পারে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল বা বিতর্কিত করা।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যমুনার আশপাশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বেতন বৃদ্ধির এই আন্দোলন কি কেবলই অর্থনৈতিক দাবি, নাকি নির্বাচন বানচাল বা সরকারকে চাপে ফেলার কোনো সুপরিকল্পিত ছক— সেই বিতর্কই এখন রাজধানীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।