রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে অবোধ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আগামী রবিবার (২৪ মে) সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারটির বাসস্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ শেষে রাত ১০টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকে অবস্থিত রামিসার স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান সরকারপ্রধান। স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ এই সময় উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে শোকাতুর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, সরকারপ্রধানের এই আকস্মিক পরিদর্শনে নিহত রামিসার বাবা-মা ও বড় বোন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ বিভাগ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মূল আসামিকে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও প্রদান করেছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।
চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পূর্বে কিছু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে সিআইডি ল্যাবরেটরিতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী রবিবার দুপুরের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া যাবে এবং সেদিনই আদালতে চার্জশিট পেশ করা সম্ভব হবে। এরপর একটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংস্কারের বিষয়েও বর্তমান প্রশাসন উদ্যোগ নেবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও যাবতীয় আনুষঙ্গিক খরচের দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের কাঁধে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পরিবারের মূল দাবি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এছাড়া বাকি সন্তানটির নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তা সরকারপ্রধান পূরণ করবেন। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের নেওয়া আইনি ও তদন্ত কার্যক্রমে ভুক্তভোগী পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
গত মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরবর্তীতে স্নানাগার থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই লোমহর্ষক কাণ্ডে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হওয়ার পর প্রথমে প্রধান আসামির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে এবং পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যে পরবর্তীতে নিজে সরাসরি এই অপরাধের দায় স্বীকার করেছে।