শুক্রবার, 16 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৭ চুক্তি : পররাষ্ট্র সচিব

ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৭ চুক্তি : পররাষ্ট্র সচিব
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আসন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে এই সফরে দুই দেশের মধ্যকার বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সফর সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে এসব কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব স্পষ্ট করেন যে, বেইজিংয়ের সাথে তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়টিও এই সফরে আলোচনার টেবিলে স্থান পাবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রবিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে প্রথমে রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে সফরসূচি শেষ করে সোমবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার কার্যভার গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। ব্যয় সংকোচন ও কাজের পরিধি বিবেচনায় এই দ্বিমুখী সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের আকার বেশ ছোট রাখা হয়েছে। উভয় দেশের সফরেই প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করা, নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সাথে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। এর পরদিন অর্থাৎ ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য 'নিউ চ্যাম্পিয়নস'-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) যোগ দেবেন। 'ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল' মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বৈশ্বিক ফোরামে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, প্রযুক্তির বিকাশ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

এই সফরের মালয়েশিয়া অংশে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি ও শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। অন্যদিকে চীন সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত পারদর্শিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে ঢাকার দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনরুল্লেখ করা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।