শুক্রবার বিকেলে দাউদকান্দি পৌর সদরে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘স্কয়ার এইড হসপিটাল’-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। ফিতা কেটে নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। বিগত ৫ মাসে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গণমুখী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। দেশ আজ অগ্রগতির পথে ধাবমান এবং তাঁকে ঘিরে সাধারণ মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখছে ও উজ্জীবিত হচ্ছে।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রদেয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অসহায়, দুস্থ ও কৃষক পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের কল্যাণে প্রবাসী কার্ড বিতরণ ও বিমানবন্দরে পৃথক প্রবাসী লাউঞ্জ স্থাপন করা হচ্ছে। এমনকি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৃঢ় বিশ্বাস, তারেক রহমানের হাত ধরেই একটি উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
উক্ত হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দাউদকান্দি থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মো. সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান হিরণ, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুঁইয়া, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী এবং শ্রমিক দল নেতা জামাল হোসেনসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ড. মারুফ আরও অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা দেশের অর্থনীতি ও সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধূলিসাৎ করে প্রস্থান করেছে। সেই দুঃশাসনে নিষ্পেষিত জাতির কল্যাণে অগ্রনায়ক হিসেবে তারেক রহমান দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তাঁর বলিষ্ঠ পরিচালনায় বাংলাদেশ দ্রুতই বিশ্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।
সবার জন্য সুচিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে এই বিএনপি নেতা জানান, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ, নতুন জনবল নিয়োগ এবং সেবা বিকেন্দ্রীকরণের বহুবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণসহ আধুনিক প্যাথলজি সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া মেডিকেল কলেজগুলোতে ৫০টি এবং জেলা হাসপাতালে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপনের কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।