শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই: প্রচারে মোদি-শাহ-মমতার বাগযুদ্ধ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ এখন চরমে। শনিবার একই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক তিনটি করে জনসভায় অংশ নিয়ে পরস্পরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে নির্বাচনী লড়াই এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই: প্রচারে মোদি-শাহ-মমতার বাগযুদ্ধ
ছবিঃ সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ এখন চরমে। শনিবার একই দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৃথক তিনটি করে জনসভায় অংশ নিয়ে পরস্পরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে নির্বাচনী লড়াই এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী, মুর্শিদাবাদের জঙ্গীপুর এবং বাঁকুড়ার কুশমন্ডিতে আয়োজিত সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ তৃণমূলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে এবং তারা বিজেপির ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হবে। গত দেড় দশকের তৃণমূল সরকারকে ‘দুঃশাসন’ আখ্যা দিয়ে তিনি পরিবর্তনের ডাক দেন।

একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়ার ওন্দা ও ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে জনসভা করেন। ওন্দার সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হীরক রানি’ বলে সম্বোধন করে কটাক্ষ করেন তিনি। শাহ মন্তব্য করেন যে, এবারের নির্বাচনে বাংলার জনগণ বর্তমান সরকারকে বিদায় জানিয়ে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়ারি, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় জনসভা করে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বিজেপি সরকার হলদিয়া বন্দর বিক্রি করে দিয়েছে এবং প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষের রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে এবং আমিষ জাতীয় খাবার নিষিদ্ধ করবে। ঝাড়গ্রামের সভায় তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, এই নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে কোনো আসনই পাবে না এবং রাজনৈতিকভাবে তারা গুরুত্ব হারাবে। সব মিলিয়ে প্রধান তিন শিবিরের এমন মুহুর্মুহু আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশ এখন টানটান উত্তেজনায় পূর্ণ।