ডিএমপি কর্তৃক গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
পুলিশি অভিযানের বিবরণে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বাপ্পি, জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া প্রাথমিক স্বীকারোক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন দুপুরে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে চক্রের অপর সদস্য রিজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শনিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ মে দক্ষিণ কমলাপুরের একটি কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ব্যবসায়ীর কাছে একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর পরদিন ১৯ মে ওই ব্যবসায়ীর কার্যালয় লক্ষ্য করে সশরীরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হলে তদন্তে শুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায় পুলিশ। তবে দীর্ঘদিন তারা অত্যন্ত চতুরতার সাথে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
মোহাম্মদ ওসমান গনি আরও উলেখ করেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে অবস্থিত বাপ্পির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে চিরুনি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি রিভলবারের গুলি, দুটি পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং অস্ত্র বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত বাপ্পি মতিঝিল ও কমলাপুর এলাকার একজন চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। লোকালয়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া মতিঝিল জোনের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাপ্পির নামে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধে আগের আরও সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।