মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলীদের ভালো দিক মানুষের চোখে পড়ে না: শাহে আলম

প্রকৌশলী ও রাজনীতিবিদদের অসংখ্য ইতিবাচক কাজ মানুষের নজরের বাইরে থেকে যায়, অথচ ছোটখাটো ত্রুটিই বেশি প্রচার পায়—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

রাজনীতিবিদ ও প্রকৌশলীদের ভালো দিক মানুষের চোখে পড়ে না: শাহে আলম

প্রকৌশলী ও রাজনীতিবিদদের অসংখ্য ইতিবাচক কাজ মানুষের নজরের বাইরে থেকে যায়, অথচ ছোটখাটো ত্রুটিই বেশি প্রচার পায়—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারদের বহু সফলতা আছে বাংলাদেশে। হাজারো সফলতার গল্প আছে, কিন্তু এই গল্প মানুষের নজরে পড়ে না। মানুষের নজরে পরে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ওটা একটা টিকটক বানিয়ে ছেড়ে দেয়। কোন সময় পর্যন্ত কার্পেটিংটা থাকবে, সেটেল হবে এটার সম্বন্ধে কিন্তু যে ওঠাচ্ছে তার ধারণা নাই। পলেস্তারা উঠিয়ে ফেলছে। উঠিয়ে ভিডিও করে ছাড়ছে। দুর্নাম হচ্ছে কার? ডিপার্টমেন্টের ইঞ্জিনিয়ারের।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাজার-কোটি টাকা খরচ করে আমরা ভালো ভালো প্রকল্প নির্মাণ করছি। কিন্তু টুকটাক যেখানে প্রবলেম হচ্ছে, সেই প্রবলেমগুলো মানুষের সামনে নিয়ে এসে ইঞ্জিনিয়ারদের হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। যেটা আমাদের কারও জন্যই কাম্য নয়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থা সম্পৃক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত দায়ভার প্রকৌশলীদের ওপরই বর্তায়।

তিনি বলেন, ‘অনৈতিক কাজের সঙ্গে কম-বেশি সবাই জড়িত। দোষ হয় ইঞ্জিনিয়ারের। একটা ডিপিপি প্রণয়ন, প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন, বিল থেকে শুরু করে সব কিছুর সঙ্গে কি ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষরেই কি বিল যায়? এর সঙ্গে ইউএনও থাকে, ডিসি থাকে। অন্য প্রজেক্ট হলে অন্যরা বা আমাদের মন্ত্রণালয়ের লোকজন জড়িত থাকে। সর্বশেষ দোষের দোষী হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার।’

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, ‘পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মধ্যে থাকলে হবে না। এই ছোট ছোট পরিকল্পনা করতে গিয়ে বারবার আমরা ধাক্কা খাচ্ছি।’

সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেখানে অনেক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।

ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) যথাযথভাবে অনুসরণ না হওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেওড়াপাড়ায় গিয়ে এমন একটা জায়গা দেখলাম, যেখানে অনেক বিস্তৃত বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। মানুষ তো মরণশীল, মানুষ মারা যাবে। একটা মানুষ ইন্তেকাল করলে ওই জায়গা থেকে যে জানাজার জন্য যে খাটিয়ায় মরদেহটা নিয়ে আসবে, সেই পরিবেশে ওখানে নাই। এর মধ্যে আবার বিদ্যুতের লাইন, গ্যাসের লাইন, পানির লাইন গেছে।’

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতির উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় এলজিডির অধীনে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাশে আরেকটি স্টিলের সেতু নির্মাণ করতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিডির মাধ্যমে একটা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ব্রিজের ফিজিবিলিটি স্টাডি করে যারা ডিজাইন দিয়েছেন, তারা ইঞ্জিনিয়ার। ব্রিজ নির্মিত হয়েছে, ৯০ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। নির্মাণের পর দেখা যাচ্ছে যে, ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি যাওয়ারই জায়গা নাই। ৬০ লাখ টাকা দিয়ে নতুন করে এলজিডির পক্ষ থেকে পাশে আরেকটি স্টিল ব্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে মানুষের চলাচলের জন্য। এটার জন্য আমরা কাকে দায়ী করব? মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা দায়ী থাকবে? সচিব দায়ী থাকবে না প্রজেক্ট যারা অনুমোদন করেছেন তারা দায়ী থাকবে?’