রাজশাহী, পাবনা ও রাজবাড়ীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া ও পাবনার সাঁথিয়ায় তিনজন প্রাণ হারান, আর গতকাল সোমবার বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একজন নিহত হয়েছেন।
রাজশাহীর পুঠিয়ায় আজ সকালে ডাম্প ট্রাক ও নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পুঠিয়া-তাহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে, পুঠিয়া পৌরসভার গন্ডগোহালী মহল্লার নিমতলা এলাকায়। নিহতরা হলেন নছিমনের শ্রমিক নাইম (২০) ও হামিম (২৫), যাদের উভয়েই রাজশাহী নগরের কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুঠিয়ার নিমতলা বাজার এলাকায় পুঠিয়াগামী মুরগিবোঝাই নছিমনের সঙ্গে তাহেরপুরগামী বালুবোঝাই ডাম্প ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে নছিমনের চালক মো. সোহেল (৩৮) এবং শ্রমিক নাইম ও হামিম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নাইম ও হামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। চালক মো. সোহেল প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক মো. মিন্টু (৪০) ও তাঁর সহকারী স্বাধীন আলী (২২) পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়; ট্রাক চালকের সহকারী স্বাধীন আলীকে ভর্তি করা হয়, আর ট্রাক চালক মিন্টুকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, “আমার গাড়ির দুজন লোক মারা গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার মুরগি ছিল। অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।” পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাবনার সাঁথিয়ায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার শোলাবাড়িয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন শাহজাদপুর ট্রাভেলসের বাসচালক কামাল হোসেন (৪২), পাবনা সদর উপজেলার দীপচর গ্রামের বাসিন্দা। অপর দুজন হলেন মাছরাঙা পরিবহনের বাসচালকের সহকারী (নাম জানা যায়নি) এবং পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর ট্রাভেলসের বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং শোলাবাড়িয়া সেতুর কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা মাছরাঙা পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলেই কামাল হোসেন মারা যান, আর আহত অন্য দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। মাধপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান জানান, নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সোমবার বিকেলে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত ব্যবসায়ীর নাম শিথিল বিশ্বাস (২৫), গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিজয় বাবুর পাড়ার বাসিন্দা এবং গোয়ালন্দ বাজারের সেতু জুয়েলার্সের মালিক কমল বিশ্বাসের ছেলে।
শিথিলের বন্ধু সজীব শাহরিয়ার জানান, সোমবার বেলা দেড়টার দিকে শিথিল দ্রুত মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফরিদপুর মেডিক্যালে নেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেল পাঁচটায় মৃত্যু হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ সমাহিত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।