শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন তারেক জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী বেঞ্চের সামনে থাকা ২১টি বিষয় নিষ্পত্তির পর রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হবে।

রোববার ইমাম হোসাইন তারেক জানান, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বর্তমানে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা এবং মাগুরায় আট বছর বয়সী আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনছেন।

তবে রামিসা হত্যা মামলার আপিলের শুনানি ঠিক কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।

নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১০ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজাকে নিয়ে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটিও এই বেঞ্চের আওতাভুক্ত।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলায় প্রতিবেশী সোহেল রানা, তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আট বছর বয়সী রামিসাকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন সোহেল রানা। পরে ঘটনা গোপন করতে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ টুকরো করার চেষ্টা করা হয়।

গত ৭ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই অপরাধে সহযোগিতার দায়ে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় নিম্ন আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সোহেল ও স্বপ্না পৃথক আপিল করেন। আপিলে তাঁরা নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ থেকে খালাস চেয়েছেন।