সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রামিসা হত্যার রায় আজ: আদালতে আসামি সোহেল-স্বপ্না

রাজধানীর মিরপুর এলাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও অত্যন্ত নৃশংসভাবে শিরশ্ছেদ করে খুনের মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে

রামিসা হত্যার রায় আজ: আদালতে আসামি সোহেল-স্বপ্না
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর এলাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও অত্যন্ত নৃশংসভাবে শিরশ্ছেদ করে খুনের মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে। রোববার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক মাসরুর সালেকীন দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় প্রকাশ করবেন।

নৃশংস এই ঘটনার পর মাত্র উনিশ দিনের মাথায় বিচারিক সব প্রক্রিয়া নজিরবিহীন দ্রুততায় শেষ করে আজ রায় দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে মামলার মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণে এনে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে অবিশ্বাস্য গতিতে এই আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা দায়েরের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট জমা দেন। সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওইদিনই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। এমনকি আসন্ন ঈদের ছুটি থাকা সত্ত্বেও এই চাঞ্চল্যকর মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারকের ছুটি বাতিল করে বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করা হয়। জুনের শুরুতে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং এর ঠিক পরদিনই বাদীসহ মোট ১৬ জন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেন আদালত। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে প্রধান আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চাইলেও, তার স্ত্রী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ রায়ের জন্য দিন ঠিক করেন।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। গত ১৯ মে সকালে সে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী নারী স্বপ্না আক্তার তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের ফ্ল্যাটে ডেকে নেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে ওই প্রতিবেশীর দরজার সামনে শিশুটির জুতো দেখতে পান স্বজনরা। সন্দেহ হওয়ায় বাবা-মা ও স্থানীয় বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে শোবার ঘরের মেঝেতে শিশুটির ধড় এবং একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অপরাধী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করে যে, সে শিশুটিকে বাথরুমে আটকে রেখে নির্যাতন করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে গলা কেটে হত্যা করে। আজ নির্ধারিত সময়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। দেশ কাঁপানো এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নিহতের পরিবারসহ সাধারণ মানুষ।