রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে পাঁচটি নাম, যার মধ্যে চারজনই বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলটির বাইরে থেকে কাউকে আনার পরিবর্তে স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যের ওপরই আস্থা রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আলোচনায় থাকা বিএনপির চার নেতা হলেন—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বিভিন্ন সময় একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
বিএনপি ও সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, শারীরিক সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় সম্ভাব্যদের তালিকা এখন অনেকটাই সীমিত হয়েছে। বিশেষ করে গত দুই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। বিএনপির একটি অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
এরপর সংসদ বিলুপ্তি, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।