বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘আনন্দ সন্ধ্যা’

আমেরিকার বুকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চিরন্তন ঐতিহ্যকে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে নিউইয়র্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘আনন্দ সন্ধ্যা’
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার বুকে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চিরন্তন ঐতিহ্যকে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে নিউইয়র্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। আনন্দ সন্ধ্যা শিরোনামের এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানটি গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি জুইস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।

এ্যাবাউট টাইম ইভেন্টস এবং অল কাউন্টি হোমকেয়ারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তার দরদভরা কণ্ঠের রবীন্দ্রসংগীত মিলনায়তনে উপস্থিত শ্রোতাদের অপার্থিব সুরের মায়াজালে আবদ্ধ করে। একই মঞ্চে দর্শকনন্দিত শিল্পী স্বপ্নীল সজীবও তার সুমধুর গান পরিবেশন করে শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আয়োজকদের উৎসাহিত করেন বিশ্বখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি প্রবাসের মাটিতে নিজস্ব সংস্কৃতি লালন ও প্রসারের এই চমৎকার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্টজনেরা বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কেবল আমাদের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক গৌরবময় স্থান দখল করে আছে। বিদেশের পরিবেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে নিজেদের শেকড়ের টান টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁরা মনে করেন, সংস্কৃতির নিবিড় চর্চা প্রবাসীদের মধ্যকার মেলবন্ধন, সহানুভূতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা, সমন্বয় সাধন ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ বি ওয়ালিউদ্দিন চৌধুরী। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল একটি সাধারণ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের আত্মপরিচয়ের সাথে যুক্ত রাখার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।

উৎসবের সমাপনী পর্বে অল কাউন্টি হোমকেয়ারের শীর্ষ কর্মকর্তা সিফা আমিন উপস্থিত সুধীজন, আমন্ত্রিত গুণী শিল্পী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতিকে সমুন্নত রাখতে এমন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাদের প্রতিষ্ঠানের নানামুখী সেবামূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সবাইকে প্রবাসীবান্ধব এই সেবাসমূহ গ্রহণের আহ্বান জানান।