শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

অভাবের সংসারে জিপিএ-৫, কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিতায় রেশমি

অভাব যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাই কঠিন। সেই বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে দিনমজুরের মেয়ে রেশমি আক্তার সুমাইয়া। এখন তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া, তবে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবার।

অভাবের সংসারে জিপিএ-৫, কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিতায় রেশমি

অভাব যেখানে নিত্যদিনের সঙ্গী, সেখানে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাই কঠিন। সেই বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে দিনমজুর বাবার মেয়ে রেশমি আক্তার সুমাইয়া। এখন তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া, তবে কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ জোগানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে পরিবার।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া গ্রামের দিনমজুর কাওসার আহমেদ ও রুশনা আক্তার দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে রেশমি সবার ছোট। চলতি বছর কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। পুরো বিদ্যালয় থেকে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী এই ফল অর্জন করেছে, তাদের একজন রেশমি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের কারণে রেশমির বড় দুই বোনের পড়াশোনা প্রায় এক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। বড় বোন উর্মি আক্তার পিনকি ডিগ্রির শিক্ষার্থী এবং মেজো বোন প্রমি আক্তার একাদশ শ্রেণিতে পড়তেন।

রেশমির পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মেধা দেখে বাবা কাওসার আহমেদ দিনমজুরি করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে গেছেন। কখনো কখনো না-খেয়েও থেকে মেয়ের স্কুলের বেতন ও শিক্ষার অন্যান্য ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মা রোশনা আক্তার সংসারের কাজ থেকে রেশমিকে দূরে রেখে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

রেশমি আক্তার সুমাইয়া বলেন, "আমি প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। বাবা-মার ত্যাগের পাশাপাশি কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষ্ণ পদ শীল ও শ্যামল কুমার সিংহ স্যারের অবদান আমি কোনোদিন ভুলব না। তাঁরা আমাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন এবং সহায়কের বই কিনে দিয়েছেন। বাবার কষ্ট দেখে ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার ইচ্ছা জেগেছে, তাই আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু এই মুহুর্তে ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার মতো টাকা আমার পরিবারের নেই।"

রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ বলেন,"পাঁচ সদস্যের পরিবারে আমি একাই উপার্জনক্ষম। দিন আনি দিন খাই, সামান্য ভিটামাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। অভাবের কারণে বড় দুই মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ করতে হয়েছে। রেশমির ফলাফলে আমরা খুব খুশি, কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি আর বই-খাতা কেনার টাকা কীভাবে জোগাড় করব বুঝতে পারছি না। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতেন, তবে মেয়েটার স্বপ্নটা বেঁচে যেত।"

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মোমিন বলেন, "রেশমি অত্যান্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী একটি মেয়ে। চরম দারিদ্রের কষাঘাতের মধ্যেও সে যে একাগ্রতা দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তার এই সাফল্য আমাদের পুরো বিদ্যালয়ের গৌরব। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে রেশমি ভবিষ্যতে তার স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবে।"

পরিবারের ভাষ্য, বড় দুই মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পর এবার রেশমির শিক্ষাজীবন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কলেজে ভর্তি, বই-খাতা কেনা এবং পরবর্তী শিক্ষার ব্যয় কীভাবে বহন করবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কাওসার আহমেদের পরিবারের।

জিপিএ-৫ পাওয়ার সাফল্যের পর রেশমির সামনে এখন নতুন পথচলা। কিন্তু আর্থিক সংকট সেই পথের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে যেতে পারে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা।