রমজান মাস শুরুর আগেই রাজশাহীর বাজারে লেবুর দাম তীব্রভাবে বেড়ে গেছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন বাজারে একটি ভালো মানের বড় লেবু কিনতে ১৫–২০ টাকা লাগে, যা দুই সপ্তাহ আগেও একই পরিমাণ লেবুর জন্য খরচ হতো মাত্র ১৫–২০ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছিল ২৫–৩০ টাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। ফলে ক্রেতারা বাজারে এসে লেবুর দোকানে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানের কারণে ব্যবসায়ীরা লেবুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, লেবুর মৌসুম না হওয়ায় সরবরাহ কমেছে এবং গ্রাহকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে দেখা যায়, প্রবেশ পথের মুখে ৪–৫ ব্যবসায়ী লেবু বিক্রি করছেন। এখানে চার ধরনের লেবু পাওয়া যাচ্ছে—ছোট লেবু হালি ৪০ টাকা, একটু বড় আকারের ৫০ টাকা, মাঝারি ৬০ টাকা এবং বড় লেবু ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে তাদের ডালিতে লেবুর পরিমাণ অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম।
লেবু ক্রেতা রায়হান হোসেন বলেন, “এক সপ্তাহ আগেও লেবুর দাম অর্ধেক ছিল। কী কারণে এক সপ্তাহে এতটা বেড়ে গেছে, বোঝা যাচ্ছে না। গাছে লেবু কম, কিন্তু বাজারে এমন দাম ঠিক নয়।”
অন্যদিকে ৮ বছর ধরে মাস্টারপাড়ায় লেবুর ব্যবসা করা মুন্না বলেন, “রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের দোষ দেওয়া হয়। বাজারে লেবু থাকলে আমরা দাম বেশি রাখব না। এখন লেবুর সিজন নয়, গাছে শুধু ফুল আছে। আমরা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, সিলেট থেকে লেবু আনছি। পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে দাম কম রাখা সম্ভব নয়।”
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লেবুর ভরা মৌসুম গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত গাছে ফুল আসে, তাই ফলন কম থাকে। যদিও কিছু গাছে সারা বছর অল্প পরিমাণ লেবু ধরে এবং চায়নিজ জাতের কিছু লেবু বাজারে পাওয়া যায়।