হেগের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি নতুন মোড়ে পৌঁছাল। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) শুরু হয়েছে মিয়ানমারের আত্মপক্ষ সমর্থন।
শুনানির প্রথম দিনে মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং দেশটির বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী দেশ গাম্বিয়া এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আদালতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” এবং প্রমাণের অভাবে এগুলো টেকসই নয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আইসিজেতে অভিযোগ করেন, মিয়ানমার পরিকল্পিত ‘গণহত্যামূলক নীতি’ গ্রহণ করে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার চেষ্টা করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন এবং প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ জীবন বাঁচাতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা ও অন্যান্য এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের তদন্তের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।
তবে মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বর্তমানে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের দাবি, ওই সময়ের সামরিক অভিযান সশস্ত্র বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়েছিল।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) আইসিজেতে শুনানিকালে কো কো হ্লাইং বলেন, রাখাইন অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের অবাধ তৎপরতার মুখে মিয়ানমার “হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না”। তার ভাষ্যমতে, তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ একটি সামরিক পরিভাষা, যা বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
২০২১ সালে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক আদালতে এমন বড় আইনি লড়াইয়ে অংশ নিল মিয়ানমার। এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান এবং রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচারের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিবিসি