রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জোরালো সমর্থন ও সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে আয়োজিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকালে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক উন্নয়নে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বস্ত্র এবং ওষুধ শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে তারা গুরুত্বারোপ করেন। এসময় প্রতিনিধিরা বর্তমান বাংলাদেশের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওআইসি প্রতিনিধিদের প্রস্তাবনাসমূহকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উপস্থিত কূটনীতিকরা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে ওআইসি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনগুলোতে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে। কেবল রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই নয়, বরং সদস্য দেশগুলোর সাধারণ জনগণের মধ্যেও পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, আলজেরিয়া, ব্রুনেই, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরক্কো, ওমান, পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইরান, ইরাক ও লিবিয়ার মিশন প্রধানরাও বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।