কক্সবাজারের উখিয়া আশ্রয়শিবিরে বিদেশ থেকে স্বজনের পাঠানো অর্থ উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে জাহিদ হোসেন নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ধারালো অস্ত্রের উপ্যুপরি আঘাতে ওই যুবক মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন।
রোববার রাতে উখিয়ার ১০ ও ১৮ নম্বর ক্যাম্পের সংযোগকারী মধ্যবর্তী রাস্তায় এই নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। রক্তাক্ত জখম হওয়া ওই যুবক ১৮ নম্বর ক্যাম্পের কে/০৯ ব্লকের বাসিন্দা আবুল কাইয়ুমের সন্তান বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান এবং পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভাইয়ের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকা সংগ্রহ করতে জাহিদ হোসেন বালুখালী বাজারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজের ডেরায় ফেরার পথে ১০ নম্বর ক্যাম্পের এইচ/৩৭ ব্লক এবং ময়নারঘোনা পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন ১৮ নম্বর ক্যাম্পের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় অপরাধী তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীরা তার কাছে থাকা অর্থ জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে জাহিদ বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে যত্রতত্র কোপাতে শুরু করে এবং টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
আক্রান্ত যুবকের আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ১০ নম্বর ক্যাম্পের দিকে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত জাহিদকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো শরণার্থী শিবির এলাকায় তীব্র ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবি, দিনশেষে অন্ধকার নামার পর ক্যাম্পের ভেতরের রাস্তাগুলোতে ছিনতাই, অস্ত্রের আস্ফালন এবং দুষ্কৃতকারীদের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি শিবিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।