সদ্য দায়িত্ব ছাড়ার পর আর্থিক খাতের বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় নাম প্রকাশ্যে এসেছে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের।
ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিপুল অঙ্কের শেয়ার হস্তান্তরে যোগসাজশ, জালিয়াতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাদের তালিকায় তিনি ছাড়াও আরও ১৯ জন যুক্ত রয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ইসলামী ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নথিপত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে ওই কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জবানবন্দি গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে ঘটনাটির গভীর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন বিচারক। পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদন জমার সময়সীমা কয়েক দফা পেছানো হয় এবং চলতি বছরের জুনে সর্বশেষ পর্যালোচনার পর নতুন একটি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একাধিক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য এই মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
নথিতে বলা হয়েছে, নামমাত্র পরিশোধিত মূলধন থাকা একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে শত কোটি টাকা মূল্যের কোটি কোটি শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি সামর্থ্য ও নিয়মের দিক থেকে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর সমঝোতার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধন অপসরণ ও কুক্ষিগত করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন।
অভিযোগপত্র থেকে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সিংহভাগ শেয়ারের কর্তৃত্ব কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হয়, যার অধিকাংশই একটি বিশেষ বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। কেনাবেচার সময়সূচি ও অর্থের উৎস বিশ্লেষণে দেখা যায়, পূর্বপরিকল্পিত উপায়ে একই দিনে এসব বিনিময় সম্পন্ন করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আধিপত্য বিস্তার করা হয়েছিল। এতে ক্ষমতার অসাধু ব্যবহার এবং আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে ফেলার স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীর বক্তব্য, ব্যাংক প্রশাসনের দেওয়া তালিকা ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার কারণে ব্যক্তির পূর্ববর্তী প্রশাসনিক মর্যাদার বিষয়টি মামলায় আলাদা গুরুত্ব পায়নি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে বাধা আরোপের আইনি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এবং পদত্যাগের ফলে সদ্য বিদায়ী এই শীর্ষ কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও সেই নির্দেশনার আইনি প্রয়োগ কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।