মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্থানীয় নির্বাচনের আচরণবিধিতে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। রোববার রাতে এসব বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয় নির্বাচনের আচরণবিধিতে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের তারিখ এখনো নির্ধারিত না হলেও এরই মধ্যে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি জারি করা হয়েছে। রোববার রাতে এসব বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিধিমালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচন হবে নির্দলীয় ভিত্তিতে। এ কারণে আগের বিধিমালার পরিবর্তে নতুন করে আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে ইসি।

নির্বাচনী প্রচারে এবারও পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার ভোটেও পোস্টার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রীর আকার ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হলেও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর বিধান করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, কারও চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য প্রচার কিংবা ঘৃণাত্মক বক্তব্য ছড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনলাইনে প্রচারণা চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আইডি ও ই-মেইল ঠিকানা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।

আগের বিধিমালার ধারাবাহিকতায় প্রচারের সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। পাশাপাশি জনসভা ও মিছিলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক থাকতে পারবেন।

ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ ভোটার কিংবা ভোটারের পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন না। একইভাবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) লেনদেনের উদ্দেশ্য দেখিয়ে ভোটারদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করাও নিষিদ্ধ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। আচরণবিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী এবং তাঁদের সমপদমর্যাদার ব্যক্তিরা প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। একই নিষেধাজ্ঞা সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রশাসকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এ ছাড়া প্রার্থী ছাড়া কোনো চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক কিংবা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখা হয়েছে।