রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই, এখনও চলছে ছাপার কাজ

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও এখনো ৩০ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাঠ্যবই হাতে পায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বেঁধে দেওয়া ১৫ জানুয়ারির সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক স্তরের একটি বড় অংশ বইহীন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট।

শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি ৩০ লাখ বই, এখনও চলছে ছাপার কাজ
ছবিঃ সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রায় এক মাস পার হতে চললেও এখনো ৩০ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাঠ্যবই হাতে পায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বেঁধে দেওয়া ১৫ জানুয়ারির সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক স্তরের একটি বড় অংশ বইহীন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট।

এনসিটিবির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এবার প্রায় ৩০ কোটি ২৪ লাখ বই ছাপার পরিকল্পনা ছিল। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের বই বিতরণ শতভাগ সম্পন্ন হলেও বিপত্তি ঘটেছে মাধ্যমিক স্তরে। নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৪ জানুয়ারি রাত পর্যন্ত নির্ধারিত বইয়ের ১.২ শতাংশ বা প্রায় ৩০ লাখ ৫৮ হাজার বই এখনো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি সপ্তম শ্রেণিতে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১০ লাখ ৭৬ হাজার বই বাকি রয়েছে। এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ লাখ ১২ হাজার, অষ্টম শ্রেণিতে ১ লাখ ৩৪ হাজার এবং নবম শ্রেণিতে প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার বই এখনো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

সময়মতো বই পৌঁছাতে না পারার কারণ হিসেবে এনসিটিবি রি-টেন্ডার বা পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়াকে দায়ী করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বই ছাপার দরপত্রে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ ওঠায় ৬০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একটি টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় মুদ্রণ কাজ শুরু করতেই তিন মাস বিলম্ব হয়। ফলে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান জানান, বই ছাপার সময় কিছু কারিগরি ত্রুটি বা 'শর্ট বই' হওয়ার কারণে এই সামান্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সব বই মাঠপর্যায়ে পৌঁছে যাবে। অন্যদিকে, এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী ভবিষ্যতে এই সংকট এড়াতে আরও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, এবার শুরু থেকেই কাজ পরিকল্পিতভাবে এগোলেও টেন্ডার সংক্রান্ত জটিলতা সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে।