সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেকীন এ দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

এর আগে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে টানা ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সেদিন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তারসহ অন্যান্য সাক্ষীর জবানবন্দিতে ঘটনার ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক বিবরণ উঠে আসে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। তদন্তে প্রাপ্ত ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না কৌশলে তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজ করতে শুরু করেন তার মা।

একপর্যায়ে আসামিদের বাসার সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল দেখতে পান তিনি। বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে বাথরুমের একটি বড় বালতির ভেতর শিশুটির মাথা পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে গত ২০ মে আদালতে হাজির হয়ে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।