রবিবার, 18 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মাদরাসাছাত্র ৫ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন ও পরবর্তীতে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিহাব হোসেন নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মাদরাসাছাত্র ৫ দিনের রিমান্ডে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন ও পরবর্তীতে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিহাব হোসেন নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম ১৯ বছর বয়সী ওই অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সাত দিনের রিমান্ডের আরজি জানিয়েছিলেন। ঘটনার শিকার শিশুটি চরম মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার পূর্বেই অভিযুক্ত শিহাব কৌশলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে তার গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে রামপুরা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত মঙ্গলবার রাতের দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে অবরুদ্ধ ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে আসামির রিমান্ডের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি শুনানিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের জঘন্য অপরাধীরা সমাজ এবং সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থার মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করছে, তাই এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন অনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল আত্মহত্যায় প্ররোচনা নয়, বরং পরোক্ষভাবে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ফলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। শুনানির সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি।

পুলিশের তদন্ত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার নেপথ্যের কারণ, অপরাধের ভয়াবহতা এবং এই চক্রে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। সেই প্রেক্ষিতেই বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের সার্বিক দিক বিবেচনা করে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।