শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ বটি-ছুরি দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করে ড্রামে ভরে রাখার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।

স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍টুকরো, ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা
ছবি : সংগৃহীত

শরীয়তপুরের চন্দ্রপুর এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ বটি-ছুরি দিয়ে খণ্ড-বিখণ্ড করে ড্রামে ভরে রাখার রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে।

তিন দিন ধরে মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলার পর অবশিষ্টাংশ ফ্রিজে লুকাতে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তার। পরে পুলিশ তাকে আটক করলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের বাসিন্দা আসমা আক্তারের সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদ এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ ও পরিচয় হয়। প্রায় আট বছর আগে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যা ছিল উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পর প্রথম দিকে আসমাকে শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রাখা হয়েছিল। গত বছর জিয়া প্রবাস থেকে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার পর তারা চন্দ্রপুর এলাকায় নতুন একটি বাসা ভাড়া নেন। তবে এরপর থেকেই তাদের মধ্যে নানাবিধ পারিবারিক অশান্তি ও কলহ দানা বাঁধতে থাকে।

দীর্ঘদিনের সেই বিরোধের সূত্র ধরে চলতি মাসের ১২ মে রাতে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ আসমা ঘরে থাকা লোহার রড দিয়ে স্বামী জিয়ার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান জিয়া। এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে আসমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীর মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করেন। মাংস এবং হাড় আলাদা করে তিনি সব অংশ একটি ড্রামের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। হত্যার তিন দিন পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের একাংশ বস্তায় ভরে আটং এলাকার বৃক্ষতলায় ফেলে আসেন আসমা। আর জিয়ার হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে আসা হয় নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীরে, যা পরবর্তীতে নড়িয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে।

সবশেষে মরদেহের অবশিষ্ট মাংসের অংশগুলো নিয়ে আসমা শহরের পালং এলাকায় তার পূর্বের ভাড়া বাসার এক প্রতিবেশীর ফ্রিজে রাখতে যান। তবে মাংস থেকে তীব্র পচনশীল দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমাকে হেফাজতে নেয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে নিহতের মাথা ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়।

নিহত প্রবাসীর স্বজন শাহাদাত হোসেন শাহেদ জানান, প্রবাসে থাকা অবস্থায় তার ভাই ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন। দেশে ফেরার পর তারা আলাদা বাসায় থাকতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর এই নৃশংস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তারা ঘটনার সত্যতা পান এবং ঘাতকের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আটক আসমা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। ঘটনার রাতেও কথা-কাটাকাটির সময় রড দিয়ে আঘাত করলে অসাবধানতাবশত জিয়ার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি লাশ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে গুম করার চেষ্টা চালান ওই নারী। ফ্রিজে অবশিষ্টাংশ রাখতে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জবানবন্দি অনুযায়ী পুকুর ও নদীর তীর থেকে নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও মদদ বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।