কক্সবাজারের রামুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোগো সংবলিত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক পুরুষ ও দুই নারীসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে গাড়িটির ড্যাশবোর্ডের অভ্যন্তর থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার অন্তর্গত জোয়ারিনালা ইউনিয়নের রাবার বাগান সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা এবং বাকি দুই নারী যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও ঢাকার দারুসসালাম এলাকার বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, একটি চক্র ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ইয়াবার বড় চালান নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের একটি আভিযানিক দল মহাসড়কের রাবার বাগান এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় চট্টগ্রামগামী সন্দেহভাজন যানবাহনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেন কর্মকর্তারা।
তল্লাশি চৌকি পার হওয়ার সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোগো লাগানো একটি প্রাইভেটকারকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলে চালক সেটি অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর অধিদপ্তরের সদস্যরা ধাওয়া করে গাড়িটির গতি রোধ করেন। আটক করার পর গাড়িতে থাকা আরোহীরা নিজেদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচিত বলে পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করে তাদের দেওয়া তথ্যের কোনো সত্যতা মেলেনি।
পরবর্তীতে গাড়িটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালানো হলে ড্যাশবোর্ডের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও পাচারে ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।