গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেওয়া নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের শীর্ষনেত্রী শেখ হাসিনার শেষপ্রান্তে দেশে প্রত্যাবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বিরোধীদের এমন খবরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বছরের শেষভাগে তাদের ফিরে আসার ঘোষণার জন্য তারা প্রস্তুত হয়েই অপেক্ষা করছেন এবং রাজনৈতিক ময়দানেই এর সুরাহা করা হবে।
আজ সপ্তাহের মাঝের দিনে শেরেবাংলা নগরের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'জুলাই অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা ও ভাববিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ২৪-এর গণসংগ্রামে জীবনদানকারী ও আহত পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সাবেক ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক আচরণের তীব্র সমালোচনা করে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অপশাসন, গুম, হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার কিংবা আয়নাঘরের মতো নিপীড়ন চালালেও বিগত সরকারের কোনো ধরনের অনুশোচনা বা লজ্জাবোধ প্রকাশ পায়নি। সেই রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের কোনো মিল নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারীদের স্বজন ও সংগ্রামীদের প্রতি সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনদের পুনর্বাসন করা বর্তমান শাসনের প্রধান ও পবিত্রতম দায়িত্ব। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, সজল, রাব্বি, মেরাজ, এলেম, তাইম, নাইমা এবং শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ সকল বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত প্রার্থনা করে জানান, তাদের এই ত্যাগ চিরকাল জাতীয় চেতনায় প্রজ্জ্বলিত থাকবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সম্মান দিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট থাকবে এবং কোনো ভুলত্রুটি হলে তা শুধরে দেওয়ার জন্য তিনি সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করে ৮২ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপ্রধান জানান, সাতচল্লিশ বছর পূর্বে চব্বিশ বছর বয়সে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন। জীবনের এই পর্যায়ে এসেও জনগণের বাকস্বাধীনতা ও সুশাসন নিশ্চিতে তিনি একই উদ্যমে কাজ করে যেতে ইচ্ছুক। আবু সাঈদের মতো খালি হাতে বন্দুকের মুখোমুখি হওয়ার বিরল সাহসিকতা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে তিনি পুরো জাতিকে এই ত্যাগের জন্য গর্বিত বলে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার তাগিদ দেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ের জুলাই আন্দোলন—উভয় রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মূল চেতনা ছিল দেশের শাসনব্যবস্থায় পূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। কোনো অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত বা সংকীর্ণ স্বার্থ যেন দেশের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।