ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বড় এক বিতর্কের মুখে ফেলেছে। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ মানতে অস্বীকৃতি জানালে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ঘটনায় বিশ্ব ক্রিকেটে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এবার মুখ খুললেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটার এবি ডি ভিলিয়ার্স।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬০’-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বিষয়টি নিয়ে মতামত দেন। এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ৪১ বছর বয়সী সাবেক তারকা বলেন, তিনি কোনো পক্ষ নিতে চান না এবং পুরো ঘটনাটিকে রাজনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছেন।
ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমি কারও পক্ষ নিতে চাই না। এটা রাজনৈতিক ইস্যু এবং তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমার কাছে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যও নেই। মন্তব্য করার মতো জানাশোনাও নেই আমার। তবে এটা বলতে পারি, ব্যাপারটা কখনোই ওই পর্যন্ত যাওয়া উচিত নয়, যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। খারাপ লাগছে। খেলাটির জন্য এটা হতাশার বিষয়। এমনটা কখনো হওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘জানি না কারা এর নিয়ন্ত্রক, কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাদের এসব সমাধান করা উচিত। ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির জড়িয়ে পড়াকে আমি ঘৃণা করি এবং এই কারণেই ব্যাপারটা এ পর্যন্ত এসেছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২০ দলের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে। বাংলাদেশের পরিবর্তে গ্রুপ ‘সি’-তে জায়গা পেয়েছে স্কটল্যান্ড।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ৪ জানুয়ারি, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়। ২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ড সভার পর জানানো হয়, বাংলাদেশকে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলতে হবে। এরপর শনিবার বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ড খেলবে।
এর আগে ৩ জানুয়ারি নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। একটি খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে পুরো দল, সমর্থক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে—এই প্রশ্ন তুলে বিসিবি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর দাবি তোলে। তবে আইসিসির বোর্ড সভায় অধিকাংশ সদস্য দেশ ভেন্যু পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দেয়।
ফলে নিরাপত্তা উদ্বেগ, রাজনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জটিলতায় এবারের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ—যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় এক হতাশার খবর।