ময়মনসিংহ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাব বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, এই অঞ্চলটি কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মৎস্য ও বনজ সম্পদের পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র নদকে কেন্দ্র করে এক বিপুল সম্ভাবনার আধার।
প্রিন্স উল্লেখ করেন, কৃষিভিত্তিক কলকারখানা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের শিল্প স্থাপন, পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং নতুন নতুন যুব উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ময়মনসিংহের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেওয়া সম্ভব। তবে এর জন্য তরুণদের প্রচলিত কর্মসংস্থান খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন, নিজেদের দক্ষতার উন্নয়ন এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার প্রয়োগ ঘটিয়ে তরুণদেরই নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করার তাগিদ দেন তিনি।
আজ রবিবার বিকেলে ময়মনসিংহের জেলা পরিষদ জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে প্রতিজ্ঞা যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ময়মনসিংহের টেকসই উন্নয়ন: যুব সমাজের ভূমিকা, চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি তারুণ্যের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন।
আলোচনায় জেলা পরিষদ প্রশাসক আরও বলেন, ময়মনসিংহের দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য যুব সমাজকে সামনের সাড়িতে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন কেবল বড় বড় অবকাঠামো তৈরি বা অর্থনৈতিক সূচকের প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, পরিবেশের সুরক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত রয়েছে।
পরিবেশগত সংকটের কথা তুলে ধরে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে অক্ষত না রেখে কোনো উন্নয়নই কখনো স্থায়ী রূপ নিতে পারে না। তাই ঐতিহাসিক ব্রহ্মপুত্র নদকে দূষণমুক্ত রাখা, ব্যাপক হারে গাছ লাগানো, ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ এবং প্রতিজ্ঞা যুব সংঘের সভাপতি মামুন মিয়াসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুব সংগঠক। সংলাপে সংগঠনটির অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।