শনিবার, 17 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার প্রস্তাব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশে সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তুরস্ককে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য স্বাক্ষরের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোকপাত করেছি। আমরা একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি জানান, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন প্রণোদনার বিষয় তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য তুর্কি বিনিয়োগকারীদের দেশের বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই সফরটি বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

খলিলুর রহমান জানান, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে তুরস্কের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ আরও জোরদারে তুরস্কের সহযোগিতা কামনা করে হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, “৯ বছর পেরিয়ে গেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সংকট সমাধানের জন্য গুরুতর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা রয়েছে।”